পবিত্র বাইবেলের "মরিয়ম" নাম নিয়ে confusion দূর হোক
পবিত্র বাইবেলে মরিয়ম নাম নিয়ে অনেকের Confusion আছে যা বিভিন্ন post দেখলে বুঝা যায়। তাদের অজ্ঞতার জন্য তাদের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণে অনিচ্ছা, শক্তগ্রীব ,আধামরা শিক্ষা ও তাদের ভ্রান্ত শিক্ষকেরা দায়ী। তাছাড়া, আরেকটি বিষয় আমার কাছে মনে হয়েছে তারা ভাসা ভাসা পবিত্র বাইবেল পড়ে শুধু ভুল ধরার জন্য।
যাই হোক এখন দেখি পবিত্র বাইবেলে বিভিন্ন মরিয়ম:
প্রথমতঃ ভাববাদী মোশির ও হারণের বড় বোন মরিয়ম । যাদের পিতার নাম অম্রাম ।আমাদের মনে রাখতে হবে তারা ছিল লেবীয় বংশের যে বংশকে ঈশ্বরের যাজকীয় কাজ করার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। অম্রামের মেয়ে মরিয়মের সাথে প্রভু যীশুর মা মরিয়মের ইতিহাসের পার্থক্য প্রায় ১৪০০ বছর। সেইজন্য দুই মরিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা , বংশ আলাদা ও গোত্র আলাদা। সেইজন্য তালগোল লাগাবেন না । (যাত্রা ২ অধ্যায়, ৬:২০ তুলনীয় ১ বংশাবলী ৬:৩)
দ্বিতীয়তঃ প্রভু যীশুর মাতা মরিয়ম (লূক ১:৩২) যিনি যিহূদা বংশধর রাজা দায়ূদের মধ্য দিয়ে আগত। অবশ্যই তিনি হারণ বংশীয় নন। তিনি আরেকজন যিহূদা বংশের রাজা দায়ুদের মধ্য দিয়ে আগত যোষেফের বাগদত্তা স্ত্রী ছিলেন। (মথি ১:১৮-২১) । প্রভুর মাতা মরিয়ম আরও সন্তান ছিল যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: যাকোব, যোশী , যিহূদা , শিমন এবং মেয়ে ছিল যাদের নাম উল্লেখ করা হয় নাই। (মার্ক ৬:৩)। তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে নারীগণের মধ্যে ধন্যা নারী হিসাবে স্বীকৃত( লূক ১:৪২)। তিনি সেই মহান নারী যার গর্ভে ঈশ্বর পুত্র, প্রভু যীশু ,যিনি অনন্তকালীন ঈশ্বরের বাক্য তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন। প্রভু যীশু তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর মাকে ভালবেসেছেন । এমনকি ক্রুশে মৃত্যু বরণ করার সময়ও তাঁর প্রিয় মাতার জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন (যোহন ১৯:২৫-২৭)।
সেই জন্য প্রভুর মাতা মরিয়ম অতুলনীয় নারী।
সেই জন্য প্রভুর মাতা মরিয়ম অতুলনীয় নারী।
তৃতীয়ত: প্রভু যীশুর বন্ধু লাসারের বোন মরিয়ম(যোহন ১১ অধ্যায়) যিনি বৈথনিয়ার মরিয়ম নামেও পরিচিত। তাঁর বোনের নাম ছিল মার্থা। প্রভু যীশু যখন তাদের বাড়ীতে গিয়েছিলেন তখন তিনি প্রভুর বাক্য শ্রবণে মনোযোগ করেছিলেন (লূক ১০:৪২)। তিনিই সেই মহিলা যিনি তাঁর ভাই মৃত লাসারের প্রভু যীশু দ্বারা নতুন জীবন প্রাপ্তির সাক্ষী ছিলেন( যোহন ১১ অধ্যায়)
তিনি সেই সম্মানীত মহিলা যিনি প্রভুর যীশুর মৃত্যুর পূর্বে প্রভু যীশুর দেহকে দামী সুগন্ধি দ্রব্যে অভিষেক করেছিলেন (যোহন ১২ অধ্যায়)।
চতুর্থতঃ মগ্দলীনি মরিয়ম : তিনি 'মাগ্দালা' শহরের ( যা ছিল তিবরীয় বা গালীল সাগরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত ছিল) একজন ধনী অধিবাসী ছিলেন।তিনি প্রভু যীশুর জাগতিক পরিচর্যার সাহায্য করতেন (লূক ৮:৩)। প্রভু যীশু এই নারীকে ভূতগ্রস্ত অবস্থা থেকে সুস্থ করেছিলেন। সুস্থ হওয়ার পরের জীবন প্রভুর সেবা করে কাটিয়েছিলেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় প্রভু যীশু পুনরুত্থানের পর এই মহিলাকে প্রথম দেখা দিয়েছিলেন (যোহন ২০১-১৮)। সে জন্য তিনি প্রভু যীশুর পুনরুত্থানের প্রথম সারীর সাক্ষী । মন্ডলীর ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
পঞ্চমতঃ ক্লোপারের স্ত্রী মরিয়ম : প্রভুর যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যুর সময় পায়ের কাছে প্রভু যীশুর মাতা মরিয়মের সাথে অবস্থান করতে ছিলেন (যোহন ১৯:২৫)। ইতিহাস অনুসারে তিনি ছিলেন প্রভু যীশুর মাতার ননদ। তিনি
ছোট যাকবের মাতাও ছিলেন। তিনি প্রভুর যীশুর কবরের পরে মগ্দলীনি মরিয়মের পাশে থেকে কবরের সামনে বসে ছিলেন (মথি ২৭:৬১; মার্ক ১৫:৪৭)।
ছোট যাকবের মাতাও ছিলেন। তিনি প্রভুর যীশুর কবরের পরে মগ্দলীনি মরিয়মের পাশে থেকে কবরের সামনে বসে ছিলেন (মথি ২৭:৬১; মার্ক ১৫:৪৭)।
ষষ্ঠতঃ যোহন মার্কের মা মরিয়ম : তিনি আরেক জন মরিয়ম যিনি প্রভু যীশুর পরিচর্যা কাজে সাহায্য করেছিলেন। তাঁর বাড়ীতেই আদি মন্ডলীর যাত্রা শুরু হয়েছে ।তিনি মন্ডলীর প্রার্থনার জন্য স্হান দিয়েছিলেন (প্রেরিত ১২:১২)। এই মরিয়মের ছেলে যোহন মার্কের দ্বারা পবিত্র বাইবেলের দ্বিতীয় সুসমাচার লিখিত হয়েছে । মা মরিয়মের কাছ থেকেই প্রভু যীশু সম্পর্কে চাক্ষুষ ঘটনার সাক্ষ্য শুনেছিলেন। ছোট কাল থেকেই প্রভু যীশুর শিষ্যদের সাথে চলাফেরা মার্ককে দিয়েছে প্রভুর কাজে সমর্পিত জীবন। সেইজন্য যোহন মার্কের মা মরিয়মের আদি মন্ডলীতে অবদান অনস্বীকার্য ।
সপ্তমতঃ আমরা রোমীয় পত্রে আরেকজন মরিয়মকে দেখতে পাই যিনি মন্ডলীর পরিচর্যায় যথেষ্ট অবদান রেখেছিলেন। তাঁর সম্পর্কে প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন ,
"মরিয়ম, যিনি তোমাদের নিমিত্ত বহু পরিশ্রম করিয়াছেন, তাঁহাকে মঙ্গলবাদ কর।"
(রোমীয় ১৬:৬)
"মরিয়ম, যিনি তোমাদের নিমিত্ত বহু পরিশ্রম করিয়াছেন, তাঁহাকে মঙ্গলবাদ কর।"
(রোমীয় ১৬:৬)
উপসংহার: মরিয়ম নাম নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক ভুল আছে যা অনেক গ্রন্থে , লেখায় ও মিডিয়ায় স্হান পায় । এই ক্ষুদ্র লেখা দ্বারা বিভিন্ন মরিয়মের পার্থক্য দেখানো হয়েছে যেন শ্রোতা সাধারণ বিভিন্ন মরিয়মের অবস্থান পবিত্র বাইবেলের ইতিহাসের আলোকে চিহ্নিত করতে পারে ও সত্য জেনে আত্মায পূর্ণ হতে পারে। তাই সত্য জানুন মিথ্যা পরিহার করুণ ।।

Comments
Post a Comment